রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৬:২৬ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি শেষের পথে

বিশ্বের মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম জমায়েত তাবলীগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে গাজীপুরের টঙ্গীতে শুরু হচ্ছে। ৩ দিনব্যাপী এ বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি প্রায় শেষের পথে। এরই মধ্যে টঙ্গীর ১৬০ একর জমিতে ইজতেমা মাঠের প্রস্তুতির কাজ ৯০ ভাগ শেষ হয়েছে। শনিবার (২৭ জানুয়ারি) ইজতেমা আয়োজক কর্তৃপক্ষ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, প্রতি বছরের মতো এবারও ইজতেমা দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম পর্ব আগামী ২ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে এবং ৪ ফেব্রুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ৯ ফেব্রুয়ারি এবং শেষ হবে ১১ ফেব্রুয়ারি।

সূত্র জানায়, এবারই প্রথম ৬৪ জেলার তাবলীগ জামাত তাদের নিজস্ব উদ্যোগে নির্ধারিত স্থানে তাঁবু টানানোর কাজ করছেন। অন্যান্য বছর তাঁবু টানানোর কাজ কেন্দ্রীয়ভাবে করা হতো। এবার শুধু বয়ানের জন্য নির্ধারিত জায়গা ও বিদেশীদের জন্য কামরা ইজতেমা কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন করছেন।

ইজতেমা আয়োজক কর্তৃপক্ষের গণমাধ্যমবিষয়ক সমন্বয়কারী মুফতি জহির ইবনে মুসলিম বণিক বার্তাকে জানান, এরই মধ্যে ইজতেমা মাঠের ৯০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ ২/৩ দিনের মধ্যে শেষ হবে। প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার লোক দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, এবার ইজতেমা মাঠে শুধু বাঁশের খুঁটি পুঁতে দেয়া হয়েছে। চটের সামিয়ানা টানিয়ে দেয়া হয়নি। প্রতিটি জেলার তাবলীগ জামাত যার যার নির্ধারিত স্থানে চটের সামিয়ানা টানিয়ে নেবেন। তিনি আরো জানান, প্রতিবারের মতো এবারো বয়ান মঞ্চের পশ্চিম পাশে বিদেশী মেহমানদের জন্য টিন দিয়ে কামরা তৈরি করা হয়েছে। সেখানে উন্নতমানের টয়লেট, বিদ্যুৎ ও সাউন্ড সিস্টেমের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এবার বিশ্বের প্রায় ১২০টি দেশের তাবলীগ জামাত এ ইজতেমায় অংশ নেবে।

ইজতেমা মাঠে বিদ্যুৎ ও সাউন্ড সিস্টেমের দায়িত্বে থাকা মো. জসীম উদ্দিন জানান, ৯টি ফিডারের মাধ্যমে সারা মাঠে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। এসব ফিডার থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। তিনি জানান, বিদ্যুৎ ও সাউন্ড সিস্টেমের কাজও ৭০ ভাগ শেষ হয়েছে। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে পুরো সাউন্ড সিস্টেমের কাজ শেষ হবে।

শনিবার সরেজমিনে ইজতেমা মাঠে গিয়ে দেখা যায়, পুরো ইজতেমা মাঠে বাঁশের খুঁটি পুঁতে রাখা হয়েছে। এসব খুঁটিতে বিভিন্ন জেলার মুসল্লিরা চটের সামিয়ানা টানাচ্ছেন। তবে বয়ান মঞ্চের আশপাশের অনেকটা জায়গাজুড়ে সামিয়ানা টানানোর কাজ শেষ। বয়ান মঞ্চও প্রায় প্রস্তত। মঞ্চে ওঠার জন্য সিঁড়ির কাজ করছেন কয়েকজন ওয়েল্ডার। তারা জানান, আজকেই মঞ্চের সব কাজ শেষ হয়ে যাবে।

গোডাউন জামাতের জিম্মাদার মাওলানা শিহাব উদ্দিন জানান, বিশ্ব ইজতেমা আয়োজকের পক্ষ থেকে মোট ১০টি বিভাগ করা হয়েছে। ১০টি বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করবে নজমওয়ালী জামাত। ১০টি জামাত হলো, পাহারা জামাত, এস্তেকবাল (অভ্যর্থনা) জামাত, জুরনেওয়ালী জামাত, পানির জামাত, বিদ্যুত জামাত, মাইক জামাত, সাফাই জামাত, রিজার্ভ জামাত, গোডাউন জামাত ও নজমওয়ালী জামাত। তিনি জানান, প্রতিটি জামাতে শতাধিক লোক থাকবে। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তারা কাজ করবে। আগামী বৃহস্পতিবার ফজর নামাজের পর পুরো প্যান্ডেলে আলাদা আলাদা খিত্তায় বয়ান হবে। বৃহস্পতিবার বাদ আসর বিশ্ব জামাতের মুরুব্বিরা বসে সিদ্ধান্ত নেবেন কে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন, কারা কারা বয়ান করবেন। তাদের ওই সিদ্ধান্ত মোতাবেক শুক্রবার ফজর নামাজের পর আমবয়ানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা।

এদিকে বিশ্ব ইজতেমা সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ করতে এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ শুরু করেছে। গাজীপুর জেলা প্রশাসন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, পুলিশ, র‌্যাব ও ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি দপ্তর তাদের নিজ নিজ সেল গঠন করেছে।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি প্রায় শেষের পথে। ইজতেমা ময়দানে যা যা প্রয়োজন সব সম্পন্ন করেছি।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) মোহাম্মদ ইব্রাহীম খান জানান, ইজতেমা উপলক্ষে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে সকল স্টেকহোল্ডাদের নিয়ে আমরা মিটিং করেছি। ইজতেমা মাঠের ভেতরে ও বাইরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করছি এবং ওয়াচ টাওয়ারের কাজ চলছে। ইজতেমায় ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলেও জানান তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com